
যখনই আমরা কিছু করতে চাই, তখনই মনে হয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাকি আছে। আমরা সেটা আমাদের TODO লিস্টে include করি, মাঝে মাঝে রিমাইন্ডারও সেট করি। কিন্তু যখন সেই রিমাইন্ডার আমাদের সতর্ক করে, আমরা সেটা আবার অন্য কোনো দিনের জন্য পিছিয়ে দিই। এভাবেই আমরা একধরনের procrastination-এর দিকে যাই।
হ্যাঁ, আমরা এটা ঠিক করতে চাই, কিন্তু এর আগে আমাদের বুঝতে হবে আসলে কী হচ্ছে এবং কীভাবে আমরা এটা মোকাবিলা করতে পারি।
“The longer you wait to take action, the less likely you are to take action.” This law is the reason we procrastinate.
প্রোক্রাস্টিনেশনের জন্যে কিছু কার্যকরী Tips:
১. যদি সম্ভব হয়, সাথে সাথে কাজটি শুরু করুন
যদি কোনো কাজ ছোটও হয়, তাহলে চেষ্টা করুন তা দ্রুত সম্পন্ন করতে। কেন? কারণ সময়ের সাথে সাথে আমাদের ইচ্ছা ও মোটিভেশন কমে যায়। কখনো কখনো আমরা ভয় পাই বা পরের ধাপ কী হবে বুঝতে পারি না। সেক্ষেত্রে সময় নিয়ে কাজের workflow ready করুন। যদি সেটাও না পারেন, তাহলে অন্তত পরবর্তী সহজ ধাপটি নিন। প্রায়ই দেখা যায়, এক ধাপ এগিয়ে নিলে বাকিগুলোও নিজের মতোই বেরিয়ে আসে।
২. আজই কিছু ছোট কাজ করুন
আপনার লক্ষ্য অর্জনে আজই সামান্য কিছু বিনিয়োগ করুন। কারণ কোনো কাজে আপনার বিনিয়োগকৃত চেষ্টা সময়ের সাথে সাথে compound করে বাড়তে থাকে। একটি নির্দিষ্ট কাজ বাছাই করুন, সেই কাজের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুঁজে বের করুন এবং আজই সেটা করুন।
৩. মস্তিষ্কের সাবকনশাস পাওয়ার কাজে লাগান
আপনি যখন কোনো কাজ শুরু করেন, তখন মস্তিষ্ক সেই কাজটি নিয়ে অবচেতনভাবে (subconsciously) কাজ করতে থাকে। হেঁটে বেড়ানোর সময়, ঘুমানোর সময় হঠাৎ করে aha moment আসে এরই কারণে। এটি আমাদের মোটিভেশনও বাড়ায়, কারণ আমরা তখন অগ্রগতি দেখতে পাই। একবার সময় বিনিয়োগ করলে তা সহজে ফেলে দিতে মন চায় না।
৪. প্রথমেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করুন
যদি একসাথে অনেক কাজ থাকে এবং বুঝতে না পারেন কোনটিতে ফোকাস করবেন, তাহলে Ivy Lee Method ব্যবহার করতে পারেন। এর নিয়ম:
প্রতিদিনের শেষে ৫-৬টি কাজের একটি লিস্ট তৈরি করুন, যেগুলো আগামী দিনে শেষ করতে হবে।
কাজগুলোর গুরুত্ব অনুযায়ী র্যাংক করুন।
পরের দিন একেবারে প্রথম কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো কাজ শুরু করবেন না।
প্রতিদিনের শেষে আবার পরবর্তী দিনের জন্য নতুন লিস্ট তৈরি করুন।
যদি কাজের গুরুত্ব বোঝা কঠিন মনে হয়, তাহলে Eisenhower Matrix ব্যবহার করতে পারেন। এটি কাজগুলোকে জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে ভাগ করতে সহায়তা করে।
এই সহজ কিন্তু কার্যকরী কৌশলগুলো অনুসরণ করলে আপনি প্রোক্রাস্টিনেশন থেকে বেরিয়ে এসে আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবেন।